বরিশালে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার
দাম্পত্য কলহের জেরে ৫৫ বছর বয়সী নুরুজ্জামান নিহত—তদন্তে বেরিয়ে আসছে ঘটনার নানা তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকায় নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাঘিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়। পরদিন ভোরে বাসার দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে ঘরের ভেতর থেকে নুরুজ্জামানের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানা গেছে। দাম্পত্য কলহের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরকীয়া, বিষ প্রয়োগ কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। ফলে এসব দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহত নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
সহিংসতা নয়, সমাধান হোক আইনের মাধ্যমে
দাম্পত্য জীবনে বিরোধ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো বিরোধের সমাধান হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে পারিবারিক আলোচনা, সামাজিক সহায়তা এবং আইনি পথ বেছে নেওয়াই নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য উপায়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন—কী কারণে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হলো এবং ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী? তদন্ত শেষ হলে এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হবে।