1. themebikroy@gmail.com : জননী টিভি নিউজ ২৪ : জননী টিভি নিউজ ২৪
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন

পাঁচ বছরের প্রেমের ভয়াবহ পরিণতি,

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পঠিত

পাঁচ বছরের প্রেমের ভয়াবহ পরিণতি

ডলিকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে খালে ফেলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া

গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে ভাসমান সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নিহতের নাম ডলি আক্তার (৩০)। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় একা বসবাস করতেন এবং একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলির প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে নিয়ে বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশনের মধ্যে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় গেলে সেখানে মিশনের মা বানু আক্তারও ছিলেন। তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর ডলিকে ঘুম ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর মিশন প্রথমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে সুটকেসে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। মরদেহ পুরোপুরি সুটকেসে না ধরায় কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মরদেহের একাংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়। পরে মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে নিয়ে সুটকেস ও বস্তা প্রথমে রাজেন্দ্রপুরের দিকে এবং পরে ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর খালে ভাসমান সুটকেস ও বস্তা দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই।

এ ঘটনায় মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার ও মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও।

নিহত ডলির বড় ভাই সোহেল গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের মামলা করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তাধীন ঘটনায় আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

একটি সম্পর্কের বিরোধ কীভাবে ভয়াবহ অপরাধে রূপ নিতে পারে—ডলি আক্তারের মৃত্যু সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। ভালোবাসা, বিয়ে বা ব্যক্তিগত বিরোধ কোনোভাবেই একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। পরিবারের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম