1. themebikroy@gmail.com : admin :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

নরসিংদীর মনোহরদীতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী পপি আক্তার নামের এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি অভিযোগ করেছেন, চাঁদার দাবিতে তার বিউটি পার্লারে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আদালতে করা মামলার অন্য দুই আসামি হলেন উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি নেতা দোলন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা তার বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে মারধর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিএনপি নেতা দোলন তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়া অন্য দুই আসামি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা ও তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পপির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী পপি আক্তার বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও থানায় মামলা করতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে ১৮ জুন নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি। আমার এবং আমার অনাগত সন্তানের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মন্জুর এলাহী বলেন, ‘আমি মনে করি এটা তার বিরুদ্ধে একটা ষড়ন্ত্র, রাজনৈতিকভাবে তাকে ঘায়েল করার জন্য মামলাটি করা হতে পারে। এটা সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিৎ। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বাদী ও তার পরিবার প্রকৃত বিষয়টি অনুধাবন করেছেন এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হয়েছে।’

মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো নারী থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।আদালতে করা মামলার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম