সত্য চাপা থাকে না—একদিন না একদিন সামনে আসবেই!
নিজস্ব প্রতিবেদক জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
১৮ বছর পরও অমীমাংসিত মহানায়ক মান্নার মৃত্যুর রহস্য—বিচার কোথায়?
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এস এম আসলাম তালুকদার মান্নার মৃত্যু আজও তাঁর ভক্ত ও পরিবারের কাছে এক গভীর বেদনার অধ্যায়। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বুকে ব্যথা নিয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ২০০৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিচার বিভাগীয় তদন্তের পর ২০০৯ সালে ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং একই বছরের অক্টোবরে অভিযোগ গঠন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। চিকিৎসকরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
এরপর নানা আইনি জটিলতায় মামলার বিচার দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। ২০২৩ সালেও মান্নার স্ত্রী শেলী কাদের দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—মান্নার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল?
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা দাবি ও প্রশ্ন সামনে আসছে। কেউ কেউ এমন কথাও বলছেন, মান্নাকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, কিংবা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।
এমনকি শাকিব খানকে ঘিরেও নানা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শাকিব খান মান্নার মৃত্যুর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আদালতে প্রতিষ্ঠিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দাবি যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
মান্নার মৃত্যু নিয়ে যে বিষয়টি নথিভুক্ত, সেটি হলো—তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা হয়েছিল, বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু এত বছর পরও সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
তাই মান্না ভক্তদের প্রশ্ন একটাই—
মান্নার মৃত্যুর ঘটনায় যে অভিযোগ উঠেছিল, তার চূড়ান্ত সত্য কি কখনো আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে?
দীর্ঘ ১৮ বছর পরও কি পরিবারটি তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাবে?
মান্নার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে সেটিও কি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে?
উত্তর সময়ই দেবে। তবে সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ—নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনের মাধ্যমে বিচার।