ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের যোগসূত্র,তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহে আলোচিত ফরহাদ হত্যাকাণ্ড ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ করে ৫০ কোটি টাকার একটি স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না,তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
নিহত ফরহাদ ময়মনসিংহের বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারের দাবি, একটি কমিটির দায়িত্বে থাকার সময় ৫০ কোটি টাকার একটি স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছে ছিল। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলহাজ্ব আব্দুর রহিমকে হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আইনগতভাবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের নামে একটি উদ্যোগ ও কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে নিহত ফরহাদও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুনর্বাসনের নামে বিভিন্ন সময়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং সরকারি অনুদানের অর্থের অনিয়ম ও আত্মসাতের মতো বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্টদের দাবি, ৫০ কোটি টাকার ওই স্ট্যাম্প ও অঙ্গীকারনামার বিষয়টি পুরো ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তাই স্ট্যাম্পটি কোথা থেকে এলো, কার নামে করা হয়েছিল, এর অর্থনৈতিক ও আইনগত ভিত্তি কী ছিল এবং ফরহাদের কাছে সেটি কীভাবে পৌঁছেছিল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে, আলহাজ্ব আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক অনিয়ম এবং অসহায় মানুষের অর্থ আত্মসাতের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
কমিটির কয়েকজন সদস্যের দাবি, তারা বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া পাননি। তাদের প্রশ্ন,অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কেন যথাযথ তদন্ত হচ্ছে না? আর যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন ,
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজধানীর বিজয় সরণি ও ফার্মগেট এলাকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলহাজ্ব আব্দুর রহিমের যোগাযোগ ও বিভিন্ন ধরনের বৈঠক হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহত ফরহাদের পরিবারের অভিযোগ, ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প-সংক্রান্ত বিষয়টি সামনে আসার পরই তাদের স্বজনকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, কার নির্দেশে ঘটনা ঘটেছে এবং এর নেপথ্যে আর্থিক কোনো বিরোধ ছিল কি না,তা দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা।
তাদের দাবি, শুধু হত্যাকাণ্ডের মামলা পরিচালনা করলেই হবে না; ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প, অঙ্গীকারনামা, কমিটির কার্যক্রম, অর্থের লেনদেন এবং কথিত রাজনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগ,সবকিছুকে একই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
প্রকৃত ঘটনা কী, ৫০ কোটি টাকার স্ট্যাম্পের সঙ্গে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের আদৌ কোনো যোগসূত্র আছে কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না,তা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
নিহত ফরহাদের পরিবার বলছে, তারা কোনো প্রতিহিংসা নয়, প্রকৃত সত্য ও ন্যায়বিচার চান। তারা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হবে এবং দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয় পর্বে আরো বিস্তারিত