অমরত্বের যাত্রা
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
আচ্ছা, আমরা তো নিশ্চয়ই অমরত্বের কথা শুনেছি। বাস্তব অর্থে হয়তোবা অমরত্ব বলে কিছুই নেই, বা আছে কি না, ঠিক আমাদের জানা নেই। কিন্তু অমরত্বের যাত্রা—এটি সত্যিই এক অনন্য যাত্রা। এই যাত্রা নিজেকে স্বর্ণাক্ষরে এই পৃথিবীর বুকে লিখে রাখার যাত্রা, নিজের অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী করার যাত্রা। এই যাত্রা জীবনের সেই অর্থকে খুঁজে বের করার যাত্রা, যার জন্য তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
কিন্তু এ যাত্রায় অংশগ্রহণ করা এতটাও সহজ নয়। মনুষ্যজীবনে যে ব্যক্তি নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ধ্যান-তপস্যায় নিজেকে লিপ্ত রাখতে পারে, যুগের পরিক্রমায় তিনিই হয়ে থাকেন স্মরণীয় ও সফল যাত্রী। তাঁদের নামই আমরা ভক্তি-শ্রদ্ধায় ইতিহাসের অমূল্য ও স্মরণীয় পাতায় লিখে রাখি। আমরা ঠিকই তাঁদের নাম জপ করি, কিন্তু তাঁদের আদর্শকে স্মরণ ও পালন হয়তোবা করি না।
তুমিও কি চাও না তাঁদের মতো নিজেকে গড়ে তুলতে? নিজের কর্মকে স্মরণীয় করে লিখিয়ে রাখতে? পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের স্মৃতিতে স্মরণীয় হয়ে থাকতে? চাও না তুমি?
তোমার কি কখনো ইচ্ছা করে না নিজের সৃষ্টিকে তুলে ধরতে? মহামনীষীদের মতো ধ্যান-তপস্যায় লিপ্ত থাকতে, এক নতুন সূর্যকে পরম যত্নে আপন করে নিতে?
কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো একজন বিশ্বমানের লেখক হতে। সক্রেটিস, প্লেটোর মতো দার্শনিক হতে, দর্শনশাস্ত্রে নিজেকে নিমজ্জিত করতে। অথবা আইনস্টাইন, নিউটনের মতো দীর্ঘ অনুসন্ধান ও সাধনার মাধ্যমে নতুন কোনো সত্য আবিষ্কার করে পৃথিবীকে চমকে দিতে।
কিছুই কি তুমি চাও না?
তুমি কি নিতান্তই ব্যর্থ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চাও? স্মৃতির পাতা থেকে বিলীন হয়ে যাওয়ার সময়ও কি তোমার মনে হবে না—
“আমিও যদি করতে পারতাম! আমিও যদি শ্রেষ্ঠ হতাম! শ্রেষ্ঠ না হই, কিছু একটা হতাম!”
আজ আমিও তো থাকতাম সেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা নামগুলোর মধ্যে, যাঁদের তপস্যায় সমগ্র পৃথিবী সর্বক্ষণ লিপ্ত থাকে। যাঁদের সৃষ্টিই আজ অমর।
তাহলে থেমে আছো কেন? ভাবো তো—তাঁরা পারলে তুমি কেন পারবে না? তুমি কি তাঁদের থেকে কম? নিশ্চয়ই না।
তাহলে আজ থেমে না থেকে চলো, সবাই মিলে জাগ্রত হই। নিজের আত্মাকে জাগ্রত করি, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখি এবং বেরিয়ে পড়ি মহাযাত্রায়—অমরত্বের যাত্রায়।
চলো সবাই।
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
পরিচালক,
আকবর লুৎফা পাঠাগার
শাহ্পুর , ডুমুরিয়া,খুলনা