রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় সাত আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলার পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিক।
খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
রহমত আলী হত্যা মামলায় ২০১৮ সালে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার। একই রায়ে ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
তখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের তালিকায় ছিলেন মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
তবে হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ওই সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ফলে মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার মৃত্যুদণ্ডই বহাল থাকল।
মামলার শুরুতে খালাস পাওয়া ছয় আসামি হলেন জেএমবি সদস্য আবু সাঈদ, তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, সাদাত ওরফে রতন মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার এবং রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন।
মামলার মোট ১৩ আসামির মধ্যে চান্দু মিয়া এবং রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন এখনো পলাতক রয়েছেন।
২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে হামলার শিকার হন মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলী। ৬০ বছর বয়সী রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
পরদিন ১১ নভেম্বর নিহতের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালে এ মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানিতে সেই রায়ের আংশিক পরিবর্তন হলো।