শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট,
অপারেশন বন্ধ, জেনারেটর নষ্ট, নিরাপত্তা হীনতায় রোগিদের দুর্ভোগ
মোঃ: রবিউল আলম ( রবি )
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র অবলম্বন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিদিন রোগির সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। নিরাপত্তা শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগের কমতি নেই। কর্তৃপক্ষের অবহেলা, চিকিৎসার মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রতিদিন বাড়ছে রোগিদের অভিযোগ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সন্তোষ প্রকাশ করতে কাউকেই দেখা মেলেনি। হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানান, তীব্র জনবল সংকটের কারণে সুন্দর পরিবেশ ও সঠিক উপায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ২১৩ টি।
বর্তমানে কর্মরত আছেন ১০৫ জন। অবাক করা বিষয় হলো হাসপাতালটিতে ১০৮টি পদ খালি রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণীর ৪৩ জন ডাক্তারের ১৭ টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়াও নার্স ১০ জন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী ৪৭ জন ও চতুর্থ শ্রেণীর ৩৪ জন কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ বর্তমানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। বঃহির বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন রোগি হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। ছিনতাই চুরি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রোগিদের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
সদ্য যোগদান করা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. আবু নাছের শাকিল জানান, হাসপাতালে রোগিদের স্বাস্থ্য সেবার মান বজায় রাখতে কাজ শুরু করেছি। শৃঙ্খলা ও পরিবেশ বজায় রাখতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না, এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা গেলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। এদিকে সার্জন ও এনেস্থিসিয়া ডাক্তারের অভাবে দুমাস ধরে সকল প্রকার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ১ বছর যাবৎ আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ১ মাস যাবত সিবিসি মেশিন ও অটো ক্ল্যাব মেশিন নষ্ট হয়ে আছে।
শুধু তাই নয় সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতাল এলাকাটি ভুতুড়ে পরিবেশে পরিনত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে আধুনিক মানের জেনারেটর মেশিন। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানির সংকট যুগ যুগ ধরে। শুধু ব্যবস্থাপনা নয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্নে থাকতে হয় রোগি ও তাদের স্বজনদের।
হাসপাতালের প্রবেশ মুখে দালালদের দৌরাত্ম, বিনা অনুমতিতে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সের হাসপাতাল চত্বর দখল ও নিয়মিত ওষুধ বিক্রয় কর্মিদের ভিড়ে রোগিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে ডাক্তারের অবহেলার বিষয়টি ব্যপক ভাবে সচেতন মহল কে নাড়া দিয়েছে। জনগণের দৌড় গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সকল প্রকার সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন উপজেলা বাসী।