নিজেকে চেনো
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
আজ মানুষ ছুটছে সত্যের সন্ধানে—এক অদ্ভুত সত্যের। সৃষ্টি করছে উন্নত থেকে উন্নততর প্রযুক্তি। ধেয়ে যাচ্ছে এখানে-ওখানে, পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বিভিন্ন কোণে। মহাবিশ্বের এই অতল সমুদ্রে ডুব দিতে তারা এক পায়ে খাড়া।
কিন্তু নিজেকে? নিজেকে তারা কতটুকু জানে,
যদি শতকরা হিসাবে হিসাব করি, তাহলে হয়তো এক শতাংশও নয়। দুঃখের হলেও এটাই সত্যি—আমরা নিজেকে জানি না।
চাঁদ, সূর্য—এদের রহস্য উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে আমরা আজ দিবারাত্রি এক করে তুলছি। ছুটে চলছি অ্যান্টার্কটিকা, মাউন্ট এভারেস্ট, কত জায়গায়! পাতালেও যেতে হয়তো বাদ রাখব না। কিন্তু নিজেকে চেনার চেষ্টা কতটুকু?
এই প্রসঙ্গে বিখ্যাত ফারসি কবি জালালউদ্দিন রুমির এই বাণীটি না বললেই হয় না। তিনি বলেছিলেন, “তুমি যা খুঁজছ, তা তোমার নিজের মধ্যেই আছে।
তাছাড়া আমাদের সবার প্রিয় দার্শনিক সক্রেটিস—তিনি বলেছেন, “নিজেকে জানো।
নিজেকে যদি আমরা সত্যিই চিনতে পারি, তাহলে হয়তো মায়াজলে ঘেরা সকল রহস্যের উন্মোচন করতে পারব। খুঁজে বের করতে পারব সেই অতল সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য রহস্যগুলো। বের করতে পারব আমাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য—কেন আমাদের সৃষ্টি হলো। তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে সকল মিথ। অন্ধকারের মায়া ভেঙে সত্যগুলো তখন আমাদের চোখের সামনে ভাসবে।
তখন যেন এই মহাবিশ্বকে আমরা নিজেদের মাঝেই খুঁজে পাব। আমাদের হৃদপিণ্ড তখন পরিণত হবে এই ব্রহ্মাণ্ডের হৃদপিণ্ডে। কোনো চশমা ছাড়াই তখন আমরা এই হৃদপিণ্ডের রক্তক্ষরণও দেখতে পারব।
কোনো কিছু আর বাইরের মনে হবে না। তখন সবই আমাদের চিরচেনা জগতে রূপ লাভ করবে।
তাই তো বড় বড় ঋষি, মনীষী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা নিজেদের চিনেছেন এবং বারবার আমাদের বলেছেন—নিজেকে চেনো।
তাদের আত্মা আজও যেন জীবিত এই মহাব্রহ্মাণ্ডের রূপে। তারা হয়তো আজ আমাদের দেখছেন। হয়তোবা আমাদের এই পাগলামি দেখে মুচকি হাসছেন।
তাই বলি কী—নিজেকে চেনো। এবার সময় এসেছে নিজেকে চেনার। কতকাল আর বাইরে ছুটবে?
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
পরিচালক
আকবর লুৎফা পাঠাগার
শাহ্পুর, ডুমুরিয়া, খুলনা