1. themebikroy@gmail.com : জননী টিভি নিউজ ২৪ : জননী টিভি নিউজ ২৪
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

কেমন করে মুরিদ হলাম -সুমন বিপ্লব,

প্রতিনিধি চাঁদপুর জেলা মোঃ রবিউল আলম (রবি)
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ১০৯ বার পঠিত

কেমন করে মুরিদ হলাম
-সুমন বিপ্লব
ছেলেবেলায় শুনতে পেতাম”খাজা বাবার দরবারে কেউ ফেরে না খালি হাতে,
১৯৮৭ সালে আমি ঢাকায় এলাম। আমার গ্রাম খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর। কিছুদিন ঘোরাঘুরির পর সংবাদপত্রে বিক্রয় কেন্দ্রে একটি কাজ পেলাম। প্রেসিডেন্ট হুসেন মোহাম্মদ এরশাদ তখন ক্ষমতায়। একসময় জানতে পেলাম এরশাদের পীর খাজা বাবা ফরিদপুরী(কু:) খাজা বাবার দলের নাম জাকের পার্টি। জাকের পার্টি থেকে দুটি পত্রিকা বের হতো। দৈনিক মুজাদ্দেদী ও সাপ্তাহিক মেঘনা। খাজা বাবার অনেক সমালোচনা শুনতাম। ৮৯ সালে আমি গুলিস্তানে হাকরী করি। ৩ টাকা মূল্যের সাপ্তাহিক পত্রিকা বাসের ভিতরে বিক্রি করতাম। রহস্য যুক্ত আকর্ষণীয় শিরোনাম থাকতো। এই শিরোনাম দেখেই মানুষ পত্রিকা ক্রয় করত। একবার শিরোনাম ছিল “আটরশি হুজুরের বিচার হবে”। প্রথমে নিজে পড়তাম তার পাশাপাশি বিক্রি করতাম। এই লেখার ভিতর ছিল খাজা বাবার জীবনী। সর্বশেষে লাইন ছিল মানুষ অন্যায় করলে আল্লাহ তার বিচার করবেন। খাজা বাবা যদি কোন অন্যায় করেন তাহলে আল্লাহ বিচার করবেন।
১৯৯৪ সালে আমি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আকিলপুর গ্রামে আসি। সাবেক চেয়ারম্যান ও জাকের পার্টি বিশ্বনাথের সভাপতি লালা মিয়ার বাড়িতে প্রতি বৃহস্পতিবারে খাজা বাবার জিকির হতো। কাজ আবার অনেক মুরিদ নারী-পুরুষ আসতেন।

আমিও সেই মাহফিলে যেতাম। জিকির শেষে তবারক দিতেন। ২০০২ সালে আমি বিশ্বনাথের সভাপতি লালা মিয়ার আমার বাড়িতে আশ্রয় পেলাম। তাঁরা প্রতিবছর বাসে জাকের মঞ্জিল যান। লালা মিয়া তার বড় মেয়ে লাভলী বেগম ও আমাকে রেখে যেতেন। ২০১১ সাল। লালা মিয়ার ছেলে ইমরান সে তার আব্বাকে বলল,
: বাসে সিট আছে সুমন স্যারকে নিয়ে চলেন।
: নেও।
আমাকে ডেকে বললেন,
: তুমি এবার আমাদের সাথে যাবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব অলি খাজা বাবার ওরস শরীফের সময় নির্ধারিত দিনে তিনটি বাস বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী থেকে ছেড়েছিল। বাস গুলো একসময় ফরিদপুর খাজা বাবার দরবার শরীফে পৌঁছাল। তাকিয়ে দেখি সবাই বাসের ভিতরে জুতা রেখে বাস থেকে নামছেন। আমিও জুতা রেখে নামলাম।

দরবার শরীফে কেউ জুতা পায়ে হাঁটাহাঁটি করে না। হাঁটতে হাঁটতে একসময় আমরা তুলার মিলের পাশে গেটের কাছে একটি অফিসে এলাম। বুঝতে পারলাম এখানে আমাদের রাতে থাকতে হবে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর লালা ভাইয়ের ছোট ছেলে সালাউদ্দিন নীল আমাকে নিয়ে খাজা বাবার মাজার শরীফে এল। আমি ওদের সাথে এসেছি তাই আমি কোন টাকার সাথে করে আনিনি। ছোটবেলা থেকে টাকায় আয় করা বা জমানো আমার পছন্দ না।

মাজারে আসার পর আমার ভিতরে অন্যরকম একটা শিহরণ জাগরিত হলো। সবাই টাকা নজরানা দিয়ে থাকে। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি মনে মনে বললাম, “খাজা বাবা আমার মনটাই নজর না দিলাম।

এই গেটের পাশে গেটে যারা থাকে তারা কোন না কোন ডিউটি করে। সালাউদ্দিন আমাকে একটি দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আমি আমার দায়িত্ব পালন করতাম। বাসে বিভিন্ন মালামাল এলে মাথায় করে নিয়ে গোডাউনে রাখতাম।

খুব আনন্দ লাগতো। ঢাকায় থাকতে শুনেছি এখানে ইসলাম বিরোধী কাজ হয়। কিন্তু আসার পর কোথাও ইসলাম বিরোধী কোন কাজ দেখলাম না। আযান দিলে জামাতের সাথে ‌ নামাজ হচ্ছিল। মঞ্চে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান আশা মাওলানারা ওয়াজ করছেন। রাতে খাওয়া দাওয়া করে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত সাড়ে তিনটার সময় শুনতে পেলাম খাজা বাবার মধুর কন্ঠ।

মাইকে বল হচ্ছে হে আল্লাহু, ইয়া রহমানু, ইয়া রাহিমু ও রহমাতাল্লিল আলামিন। ফজরের আযান দিলে নামাজ পড়তে শুরু করলাম জামাতের সাথে। দুই একজন ছাড়া সকল লোকই জেগেছেন।

নামাজ শেষে মাইকে ঘোষণা দিলেন আপনারা যারা খাজা বাবার মুরিদ হতে চান নামাজের কায়দায় বসুন। আমি বসে পড়লাম মুরিদ হওয়ার জন্য। খাজা বাবার রেকর্ড কন্ঠের মাধ্যমে কলেমা পড়িয়ে দিয়ে বললেন,

: আমি আপনাদের নবীর(সা:) উম্মত হিসেবে সংযোগ ঘটিয়ে দিলাম। আমরা সবাই একটি অজিফা কিনবেন। অজিফার নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

আমি সিলেটে ফিরে গিয়ে আজিবার নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করলাম এবং আজও আমি অজিফার নিয়ম পালন করার চেষ্টা করে চলছি।

খাজা বাবা ,জাকের পার্টি, মেজ ভাইজান, মিয়া ভাইজান ও চাচাজানদের নিয়ে আমি অনেক ছড়া লিখলাম। যেসব আমি ফেসবুকে দিতে থাকলাম। কিছু লেখা কপি করে ঢাকার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম জাকের পার্টির অফিসে। সালাউদ্দিন নীল তার আইডি ইনস্টাগ্রামে পাঠিয়েছিলেন। চাচাজান লেখাটি পড়ে লাইক দিয়েছিলেন।

বিশ্বনাথ এলাকায় জাকের পার্টির অনেক কাজ করেছি। জাকের মঞ্জিলে চারবার আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমি আমার খুলনার ডুমুরিয়ার শাহপুর গ্রামে ফিরে আসি। মনে মনে ভেবেছিলাম ডুমুরিয়া উপজেলায় আমি কাজ করব। জাকের মঞ্জিল গিয়েছেন এমন অনেক কে পেয়েছি কিন্তু কোন মুরিদ খুজে পেলাম না তিন বছরে আজও।

তাই একাকী ছড়া লেখা ছাড়া কোন কাজ করতে পারছি না। তবে বিশ্বাস আছে এই ডুমুরিয়ায় একদিন আমি কমিটি দাঁড় করাতে পারবোই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম