ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার মাথায় হাত রেখে দুই সন্তানের দোয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: মিসেস চামেলি আক্তার প্রিয়া
ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার মাথায় হাত রেখে এভাবেই দোয়া করছে দুই অবুঝ সন্তান। ক্যান্সার শব্দটি তারা বলতে পারে, কিন্তু এই রোগের ভয়াবহতা কিংবা বাবাকে হারানোর আশঙ্কা কতটা গভীর—তা বোঝার বয়স এখনো হয়নি তাদের।
এই শিশুদের বাবা মাসুদ রানা। পেশায় ছিলেন অটোরিকশাচালক। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিন বছর আগেও স্বাভাবিকভাবেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাসুদ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়।
এরপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার লড়াই। ধারদেনা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনোভাবে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। মাসুদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটিও বিক্রি করতে হয়েছে।
আর মাত্র দুই কেমোথেরাপি প্রয়োজন
মাসুদ রানা জানান, ইতোমধ্যে তিনি তিনটি কেমোথেরাপি নিয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও দুটি কেমোথেরাপি প্রয়োজন। পরিবারটির দাবি, এই দুই কেমোথেরাপি সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন।
কিন্তু চিকিৎসার শেষ পর্যায়ে এসে অর্থের অভাবে থেমে গেছে তাঁর চিকিৎসা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকরা আরও দুইটি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর চিকিৎসার পরবর্তী ফলাফল সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কিন্তু সেই চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় সংকট। আত্মীয়স্বজন ও ভাইয়েরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে সহযোগিতা করেছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তাঁরাও এখন নতুন করে বড় ধরনের সহায়তা করতে পারছেন না।
চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ হওয়ার পথে সন্তানদের পড়াশোনাও
চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার পথে। স্কুল-মাদ্রাসার বেতনসহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করতে পারছেন না পরিবারটি।
একদিকে বাবার চিকিৎসা, অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—সব মিলিয়ে চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটছে মাসুদ রানার পরিবারের।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন দক্ষিণ কলাবাগ এলাকায় বসবাসরত মাসুদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, গত তিন বছর ধরে তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারটির পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন তাঁদের পক্ষেও নিয়মিতভাবে সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন
সন্তানদের মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে আনতে এবং চিকিৎসা শেষ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ভাই-বোনসহ দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন মাসুদ রানা ও তাঁর স্ত্রী।
মাসুদের আকুতি—“আর মাত্র দুটি কেমোথেরাপি। এই চিকিৎসাটুকু শেষ করতে পারলে হয়তো আবার সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”
একজন বাবার বেঁচে থাকার আকুতি, আর দুই সন্তানের বাবাকে হারাতে না চাওয়ার এই প্রার্থনা—মানবিক হৃদয়কে নাড়া দেওয়ার মতো।
🤲 আল্লাহ মাসুদ রানাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা সহজ করে দিন এবং তাঁর সন্তানদের বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না করুন। আমিন।
#মাসুদ_রানার_জন্য_দোয়া
#ব্লাডক্যান্সার
#চিকিৎসার_জন্য_সহায়তা
#মানবিক_আবেদন