1. themebikroy@gmail.com : জননী টিভি নিউজ ২৪ : জননী টিভি নিউজ ২৪
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার পঠিত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। ভোট শেষ হওয়ার পর একই স্থানে ব্যালট গণনা করে ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদের প্লেনারি হলেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট দেওয়া হবে। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্ধারিত স্থানে ভোট দিয়ে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।

ভোটারদের সুবিধার জন্য ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যদের ব্যালট সরবরাহ করা হবে, যাতে একসঙ্গে বেশি ভিড় তৈরি না হয়  সিইসি, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নুরুল ইসলাম মনি জানান, ভোট শুরুর প্রথম ২০ মিনিট সম্প্রচারে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কোনো সংসদ সদস্য হলে তার ভোট দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হবে।

ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।  ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা এবং ফল ঘোষণার কার্যক্রমও সম্প্রচারের আওতায় থাকবে।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গত ১১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোট নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সিইসি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ বিরতির কারণে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছু ঘাটতি থাকলেও নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট সদস্য ৩৫০ জন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।

ইসি জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপানো হয়েছে। ভোটাররা ব্যালট হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।

দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আজ তাদের মধ্যেই সরাসরি ভোট হবে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। তার মতে, গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে, এর আগে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।

সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার আবারও দুই প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম