আকিলপুরে অরূপদাদা
সুমন বিপ্লব

১৯৯৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ড. অরূপরতন চৌধুরীর সাথে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল বারডেম হাসপাতালে। দেখা হওয়ার ঘটনা একটু বলতে হয়। আমি অরূপ দাদার দরজা খুলে বললাম,
ঃ আমি সিলেট থেকে এসেছি।
ঃ আপনি সুমন বিপ্লব। বসুন। ঢাকায় আগমনের উদ্দেশ্য কী?
ঃ আপনাদের দেখতে আর আমার স্বপ্নের কথা জানাতে।
ঃ বলুন।
ঃ ১৯৯৪ সালে আকিলপুর এসে জানতে পারি সাহিত্যিক গুরু ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর স্বামীর বাড়ি এই গ্রামে। ৮১ সাল থেকে তাঁর লেখা পড়ে আসছি। পরিচয় জানার পর থেকে আমি মনে মনে ভাবি আমি উনার গ্রামে একটি প্রতিষ্ঠান করব। অনেককে বলি আপনার স্বপ্নের কথা। সবাই বললেন তাঁর অনুমতি ছাড়া করাটা ঠিক হবেনা। ৯৫ সালে ৫টি বই নিয়ে পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু করি।

৯৬ সালে ঢাকা থেকে আকিলপুরে এলেন সাহিত্যিক যাযাবর মিন্টু। সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রতিভা পাঠাগারের উপদেষ্টা মোঃ লালা মিয়া ভাইজান খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেন। খাওয়া শেষে আকিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র পুরকায়স্থ স্যারকে ডাকানো হল। তিনি বললেন,
ঃ ড. মঞ্জুশ্রী স্বামী শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী সম্পর্কে আমার মামাতো ভাই।
মিন্টু ভাই বললেন,
ঃ ছোট ছেলে অরূপরতন চৌধুরীর সাথে প্রায় বিটিভিতে দেখা হয়।
ঃ অরূপদা উনার ছেলে। ৮১ সাল থেকে ইত্তেফাকে তাঁর লেখা পড়েছি। এই গ্রাম তাঁর জন্মভূমি। তিনিতো বিখ্যাত লেখক।

ঃ তাঁর ভাই ডাঃ শুভাগত চৌধুরীর লেখা পড়েছো।
ঃ ৮১ সাল থেকে পড়ে আসছি। তিনিও বড় সাহিত্যিক। আমি অবাক হয়ে গেলাম এত বড় বড় মানুষের গ্রাম আকিলপুর। অথচ গ্রামের মানুষ জানেনা। কিন্তু তারা কেন গ্রামে আসে না?
ঃ সুমন তুমি প্রতিষ্ঠানের নাম দাদার মায়ের নামে দিও। আমি তোমাকে সহযোগিতা করতে বলব।
ঃ মাসীর নামে কিছু করার ইচ্ছে ছিল। অনুমতি ছাড়া করি কি করে?
ঃ শুনলাম আপনার স্বপ্নের কাহিনী, বলুন এখন কি করতে পারি?
ঃ ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান করতে চাই।
ঃ ঠিক আছে। আমি সহযোগিতা করব। আমি আকিলপুরে আসব, অনুষ্ঠান করব।
২০২০, ২৭ জানুয়ারি আকিলপুর আসলেন।
সুমন বিপ্লব
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
খুলনা শাখা
ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমি
শাহপুর ডুমুরিয়া খুলনা