চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে বাবাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। নিহত শাহজাহান (৫৫) নামে ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে মো. শওকত পলাতক রয়েছেন।

নিহত শাহজাহান বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শাহজাহানের মেয়ে ও তার ছেলে শওকতের স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহজাহান বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করেন।

ঝগড়া থামাতে গিয়ে তিনি নিজের মেয়েকে শাসন করতে চড়-থাপ্পড় দেন। এ সময় একটি চড় শওকতের স্ত্রীর শরীরেও লাগে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শওকত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওমানফেরত শওকত একটি গাছের লাঠি হাতে নিয়ে বাবার ওপর হামলা করেন। তিনি শাহজাহানের মাথায় সজোরে আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে পড়ে যান তিনি।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত শাহজাহানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। রাত প্রায় ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম। তিনি জানান, পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ছেলে তার বাবার ওপর হামলা করেন।

তিনি বলেন, লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত শাহজাহানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

রামদাস মুন্সির হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. দুলাল হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্ত মো. শওকতকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঠেকাতে বিরোধ মীমাংসা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।