মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে হেলিকপ্টারে করে বাঁশখালীতে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ১০০টি গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এ সময় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

এরপর হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা অংশ নিতে পারেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

সফর শেষে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।