দেশব্যাপী সম্প্রতি জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার তথ্য বিবেচনায় নিয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও সন্দেহজনক যেকোনো বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, আগস্ট মাসজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কিছু কার্যক্রমের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এ কারণেই পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের বাহিনীকেও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, দুটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া একটি পরিত্যক্ত ব্যাগের ঘটনাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যাগটি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটির ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বোমা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে পরিত্যক্ত ব্যাগ, সন্দেহজনক বস্তু বা অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয় না এবং প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কেউ নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কোনো কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে। সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গত পাঁচ থেকে ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। আগের সময়ের তুলনায় বোমা রেখে যাওয়া কিংবা এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে এমনটি মনে করার সুযোগ নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং অন্যান্য বিশেষায়িত দল ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে। কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া মাত্র দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আগেই সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করা যায়।

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও সন্দেহজনক কোনো বস্তু, ব্যাগ বা ব্যক্তির গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জনসচেতনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।