শ্রাবণের শিলাহৃদয়
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
শ্রাবণের উত্তাল বাতাস
যখন মনকে করে তোলে আকূল,
প্রাপ্তির তৃষ্ণা তখন
কুরে কুরে খায় হৃদয়।
বর্ষার ন্যায় ঝরতে থাকে
হৃদয়ক্ষরণের রক্তধারা।
শ্রাবণের বাতাস তখন
আর গায়ে লাগে না।
উপেক্ষা করে চলে যায়
দিক দিগন্তে।
শিলাহৃদয় তখনো গম্ভীর।
সবকিছুই যেন তাহার চোখে
নিছক নাট্য দৃশ্য।
এই শিলাহৃদয়
দ্রবীভূত করা সহজ নয় বটে।
অন্তহীন বেদনার দহনে
তার হৃদয় আজ
পাষাণে রূপান্তরিত।
সে আজ উন্মাদ
প্রতিশোধের অগ্নিশিখায় দগ্ধ ।
কিন্তু সে জানে না বটে—
এই প্রতিশোধস্পৃহায়
তাকে জাহান্নামের দহনশিখায়
পতিত করিবে।
তখন কোনো প্রণয়ের বন্ধনও
তাহাকে সেই দহনযন্ত্রণা হইতে
পরিত্রাণ দিতে পারিবে না।
প্রতিশোধ তখন ধারণ করিবে
কালীর রুদ্ররূপ,
প্রলয়তাণ্ডব নৃত্য করিবে
তাহার উরঃস্থলে।
তাহার কর্মই তখন
তাহাকে মনুষ্যত্বের শিক্ষা দান করিবে;
অতঃপর সে বিলীন হইবে
এই অনন্ত মহাকাশের
অতল শূন্যতায়।
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
পরিচালক,
আকবর লুৎফা পাঠাগার।
শাহ্পুর, ডুমুরিয়া,খুলনা