হে মানব
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
হে মানব,
তুমি রুদ্ধ করেছ তোমারই দেহ
তোমারই মায়ার জালে।
আসলেই কি জালটা তোমার?
তাও তো জানো না অন্তরাত্মার অন্তরালে।
ছিন্ন করো সেই রুদ্ধ বন্ধন,
যা তোমাকে করে পরাজিত।
চূর্ণ করে দাও সেই দম্ভের প্রাসাদ,
যেথায় কেনাবেচা হয় মানবাধিকার।
বস্তার পর বস্তা ভরে
মানবদেহ আজ লুটিয়ে শ্মশান।
উত্তাল বাতাস বয়ে নিয়ে যায়
মৃত লাশের গন্ধ।
পূর্বের সেই সূর্যটিরও আজ
লজ্জায় মাথা নিচু —
কিবা করবে সে?
পৃথিবীতে আজ তাই তাণ্ডব-মৃত্যু,
প্রতিদিন নৃত্য করে একই তালে;
তবুও যেন থামে না কোনোদিন
ধ্বংসের এই উন্মত্ত জ্বালে।
রক্তিম সূর্যটিও আজ
ভয়ে ডুবে যায় পাতালে।
পৃথিবী আজ নিথর যেন
মরণ-খেলার বিভীষিকাময় কালে।
জীর্ণশীর্ণ পৃথিবী আজ
শকুনের আঁচড়ে ছিন্নভিন্ন, হায়!
তৃণমূল জুড়ে জ্বলে উঠেছে
অগ্নিময় শিখার জাল।
জ্বলছে অগ্নি, পুড়ছে সবাই,
ধ্বংস হবে আর কতকাল?
আর কতকাল থাকবে তুমি
মায়ামোহে উন্মাদ, হে মানব?
হুঁশ ফিরিলে জাগিবে যেথায়—
জাহান্নামের অগ্নি সেথায়।
টগবগে এই পৃথিবীতে আজ
পাশার গুটি নাচে দোলায়।
মানবদেহ সুতোয় বাঁধা,
একটি চালে হয় গো সাজা।
সবকিছু আজ মিথ্যে হয়েছে,
তুমি ভাবছ—আসল তুমি!
না গো, পাগল! তুমি নও আসল,
তুমিও তাদের হাতের মুঠোয়,
যুগান্তর থেমে আণছে যেথায়।
পৃথিবী আজ নগ্ন
সেথায় , ধ্বংস তাই আজ অনিবার্য।
সায়নী আহমেদ শ্রুতি
পরিচালক
আকবর লুৎফা পাঠাগার
শাহ্পুর , ডুমুরিয়া, খুলনা