নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেওয়া এক গৃহবধূর কোল খালি হয়ে গেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে পাঁচ নবজাতকই মারা গেছে। এই ঘটনায় পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নবজাতকদের স্বজন মো. দিদার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত শনিবার (২৭ জুন) সকালে চাটখিল নোয়াখলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফেরদাউস আক্তার সাথী ‘চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালে’ স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময়ই একটি নবজাতক মৃত ছিল।

জীবিত অন্য চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়। কিন্তু অপরিণত বয়স এবং শারীরিক জটিলতার কারণে পরবর্তীতে একে একে তারাও মারা যায়।

চাটখিল নরমাল ডেলিভারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার জানান, সাথীর গর্ভকাল ছিল প্রায় ছয় মাস। গর্ভাবস্থায় ১২ সপ্তাহের আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। ডা. তাহমিনা আক্তার সুবর্ণা বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তান ধারণ অত্যন্ত বিরল এবং এটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘটনা, যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান দাবি করে।

বিয়ের তিন বছর পর প্রথমবার সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবরে পরিবারটিতে আনন্দের জোয়ার এসেছিল। কিন্তু জন্মের পর পাঁচ সন্তানকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে। রংমিস্ত্রি মো. পারভেজ তার সীমিত আয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন। সন্তানদের বাঁচাতে তারা বিভিন্ন সময়ে বিত্তবান ও সরকারের সহায়তা কামনা করেছিলেন।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পরিবারটির খোঁজখবর নিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা মা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেই প্রার্থনা করি।